রাজনীতি

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ ২২:৩৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বহুল আলোচিত রায়ের এক মাসের বেশি সময় পর তার গ্রেপ্তার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই মামলাটি নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক উপাচার্যকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত করার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন অনেকে। আবার মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষার্থী মহলের একটি অংশের দাবি, আন্দোলন দমনে প্রশাসনিক ভূমিকা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার প্রশ্নে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন হলেন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। এছাড়া পুলিশের আরও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়। তাদের অনেকেই এখনো পলাতক রয়েছেন।

মামলার অন্যতম আলোচিত দিক ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযোগ ওঠা। ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করে, শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও সহিংস দমননীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ড. হাসিবুর রশীদের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ পুরো মামলার তদন্ত ও রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন