ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ ১৭:১৩

তোফায়েল আহমেদ

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ সময়ে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম তোফায়েল আহমেদ। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৬৮-৬৯ সালে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন এবং আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।

ঐতিহাসিক ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ। সেই মুহূর্তটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অন্যতম আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতির বিভিন্ন উত্থান-পতনের মধ্যেও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদান স্মরণ করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে আরো পড়ুন