চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের একটি জুতা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযানে ৫০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী অংশ নিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি, রয়টার্স ও এপি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে জিনজিয়াং শহরের হুইতেং ফুটওয়্যার কারখানার পাঁচতলা ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ভবন থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের বিশাল শিখা বের হতে দেখা যায়। ভবনের ছাদে কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন বলেও জানানো হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় কারখানায় ২৩৯ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ২১৩ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৮ জনে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে ৫০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী, দমকল সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। জুতা তৈরিতে ব্যবহৃত দাহ্য কাঁচামাল ও আঠার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সিঁড়িপথ ও নির্গমনপথে পণ্য মজুত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ঘটনার পর কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং দুর্ঘটনার কারণ দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহর চীনের ‘জুতার রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শহরটির হাজারো কারখানায় ১২০ কোটির বেশি জোড়া জুতা উৎপাদিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন