বিশ্ব

ব্রিটেনে অভিবাসীদের আতঙ্ক নাইজেল ফারাজের পতন?

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৬

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রিফর্ম ইউকের নেতা Nigel Farage। আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও তা যথাযথভাবে ঘোষণা না করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই তিনি ক্ল্যাকটনের এমপি পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন উপনির্বাচনেও আবার প্রার্থী হবেন এবং জনগণের রায়ই হবে তার কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচার।

ফারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এমপি হওয়ার আগে দীর্ঘদিনের সহযোগী জর্জ কটরেলের কাছ থেকে নিরাপত্তা, কর্মীসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়েছিলেন, যা সংসদীয় নিবন্ধনে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রাপ্ত ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি আর্থিক উপহার নিয়েও পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার তদন্ত চালাচ্ছেন। তবে ফারাজ সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কোনো আইন বা সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গ করেননি।

নিজের ঘোষণায় ফারাজ বলেন, এটি হবে "জনগণ বনাম প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার" লড়াই। তার ভাষায়, ক্ল্যাকটনের ভোটাররাই ঠিক করবেন তিনি ভুল করেছেন কি না। তিনি বলেন, তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং জয়ী হওয়ার জন্য লড়বেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে যেমন সাহসী রাজনৈতিক কৌশল, অন্যদিকে বড় ধরনের ঝুঁকিও। কারণ তিনি পুনর্নির্বাচিত হলেও তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত বন্ধ হবে না; বরং সংসদে ফিরে এলে তদন্ত আবারও শুরু হতে পারে।

এদিকে বিরোধী দলগুলো এই উপনির্বাচনকে "রাজনৈতিক নাটক" বলে আখ্যা দিয়েছে। লেবার, কনজারভেটিভ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটসহ কয়েকটি বড় দল ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা এই উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে না। তাদের অভিযোগ, ফারাজ চলমান তদন্ত থেকে জনদৃষ্টি সরাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

অভিবাসীদের জন্য এর অর্থ কী?

সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতি কঠোর করার দাবিতে সবচেয়ে সরব কণ্ঠগুলোর একটি ফারাজের। তাই অনেক অভিবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, তার এই রাজনৈতিক সংকট ভবিষ্যতের অভিবাসন নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না।

তবে বর্তমান বাস্তবতা হলো, না। ফারাজের পদত্যাগ বা উপনির্বাচনের কারণে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট বা অভিবাসন আইন তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন হচ্ছে না। এসব নীতির দায়িত্ব বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো আইন কার্যকর হয় না।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন