প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৪:৪৪
দেশে কোনো ধরনের চরমপন্থা, উগ্রবাদ কিংবা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় সরকার কোনো আপস করবে না।
বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রায় এক মাসব্যাপী বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন এবং কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে চরমপন্থা, উগ্রবাদ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের কোনো সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বাংলাদেশ কোনোভাবেই অন্যের প্রভাবাধীন রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটি কখনো শত্রুতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতা ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি এখন দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে চায়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্নীতিকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের শাসনামলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো উপায়ে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক বাহিনীতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সেবাকে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এসব সুবিধা জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়, বরং সাংবিধানিক দায়িত্ব।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জনগণের জীবন, সম্পদ ও অধিকার সুরক্ষাকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন গত ৭ জুন শুরু হয়ে ১৫ জুলাই শেষ হয়। এ অধিবেশনে বাজেট পাসের পাশাপাশি মোট ১০টি বিল পাস এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন