প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ ১৭:২১
সংসদে বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান
নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সমন্বিত মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ইতোমধ্যে নিজ নিজ খাতভিত্তিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তার লিখিত উত্তর উপস্থাপন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরিবার, কৃষক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি। এর অংশ হিসেবে নারীপ্রধান নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজারের বেশি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে কৃষকের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভর্তুকি ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন বলে সরকার আশা করছে।
স্বাস্থ্য খাতে জনগণের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় এই সেবা চালু হবে। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রিদের জন্য সম্মানী ভাতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি খাতে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্যপদ পূরণের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার জন্য ঋণসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে দেশে পেপ্যাল সেবা চালু এবং হাইটেক ও সফটওয়্যার পার্কগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় উন্মুক্ত খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।
পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেই ৩ কোটির বেশি চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত খালের সংস্কারকাজ চলছে।
বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। রুফটপ সোলার ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন