বিশ্ব

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার এলন মাস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ ০২:৩১

বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তির সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। স্পেসএক্সের শেয়ার মার্কেটে তালিকাভুক্তির মধ্য দিয়ে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করলেন মার্কিন ধনকুবের ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক।

শুক্রবার (১২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাসড্যাক স্টক এক্সচেঞ্জে স্পেসএক্সের শেয়ার লেনদেন শুরু হয় প্রতিটি ১৫০ ডলারে (প্রায় ১১২ পাউন্ড)। দিনের মধ্যে দর উঠে ১৭৬ ডলারে, যদিও শেষ পর্যন্ত ১৬০ দশমিক ৯৫ ডলারে লেনদেন বন্ধ হয়। কোম্পানির নিজস্ব প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছিল ১৩৫ ডলার — সে হিসেবে সমাপনী মূল্য প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

এই আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম। ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর ২৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের আইপিওর পর এটিই সবচেয়ে বড় শেয়ার ছাড়।

মাস্কের সম্পদ এখন কোথায়?

ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মাস্কের পরেই রয়েছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ (৩০৪ বিলিয়ন ডলার) ও সের্গেই ব্রিন (২৮৩ বিলিয়ন ডলার) এবং আমাজনের জেফ বেজোস (২৬২ বিলিয়ন ডলার)। অর্থাৎ মাস্কের কাছের প্রতিদ্বন্দ্বীরও সম্পদ তাঁর অর্ধেকেরও কম। দ্বিতীয় ট্রিলিয়নেয়ার কে হবেন, সেই প্রতিযোগিতা এখনও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইপিওতে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য মুনাফার মুখ দেখছেন। বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এজেবেলের হিসাবে, যিনি ১৩৫ ডলার দরে ২০টি শেয়ার কিনেছিলেন, তিনি মাত্র একদিনেই কাগজে-কলমে ২২৩ পাউন্ড লাভে আছেন — একটি সেরা সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে যা পেতে দুই বছর অপেক্ষা করতে হতো।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, স্পেসএক্সের প্রকৃত পরীক্ষা হবে আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে। মার্জারমার্কেটের বিশ্লেষক স্যামুয়েল কের বলেন, আইপিওর পরের তাৎক্ষণিক লেনদেন নয়, দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের মূল্য কোথায় দাঁড়ায় সেটাই আসল প্রশ্ন।

বিতর্কও কম নয়

মাস্কের এই অভূতপূর্ব সম্পদ বৈশ্বিক বৈষম্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দাতব্য সংস্থা অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদ বিশ্বের ৩৮০ কোটি দরিদ্রতম মানুষের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি — যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৪৬ শতাংশ। গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৫৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, গড়ে প্রতি মিনিটে ১০ লাখ ডলার।

অক্সফাম জিবির চিফ ইনফ্লুয়েন্সিং অফিসার জিন ম্যাকলিন মন্তব্য করেছেন, একজন ট্রিলিয়নেয়ারের অস্তিত্ব সুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে অস্বাভাবিক সম্পদ ও ক্ষমতা মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, মাস্কের সম্পদের মাত্র ১০ শতাংশ কর আরোপ করলে ৮০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের বাইরে আনা সম্ভব।

স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

স্পেসএক্সের মহাকাশ উচ্চাভিলাষও আলোচনায় উঠে এসেছে। মাস্কের পরিকল্পনা ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে মানবহীন মহাকাশযান মঙ্গলে পাঠানো এবং পরবর্তী সময়ে মানব অভিযান পরিচালনার। তবে স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারশিপ রকেট এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকায় ২০২৬ সালের মধ্যে মঙ্গল অভিযান বাস্তবসম্মত নয়।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন