প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ ১৮:১১
সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম
যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম দেশ পরিচালনার জন্য নিজের প্রথম বড় রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেলে লন্ডনকেন্দ্রিক ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে সারা দেশে উন্নয়নের ভারসাম্য তৈরি করবেন এবং স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করবেন।
সোমবার ম্যানচেস্টারের পিপলস হিস্ট্রি মিউজিয়ামে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে বার্নহাম বলেন, ব্রিটেনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই হবে না, পরিবর্তন আনতে হবে পুরো শাসনব্যবস্থায়।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি অতিমাত্রায় কেন্দ্রীয়কৃত ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করছে। লন্ডন ও হোয়াইটহলে প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অথচ দেশের অন্যান্য অঞ্চল প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। এই বৈষম্য দূর করতে তিনি ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বার্নহাম জানান, প্রধানমন্ত্রী হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ম্যানচেস্টারে স্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে শুধু উত্তর ইংল্যান্ড নয়, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।
ভাষণে তিনি অর্থনীতি, আবাসন, শিক্ষা ও জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামাজিক আবাসন (কাউন্সিল হাউস) নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে আবাসন সংকট কমানো যায় এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।
এছাড়া স্থানীয় ব্যবসা ও শহরের অর্থনীতি চাঙা করতে ব্যবসায়িক করব্যবস্থায় (Business Rates) সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর মাধ্যমে কল্যাণভাতার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন বার্নহাম। তিনি বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষা নয়, কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষারও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে তরুণরা কর্মবাজারের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারে।
জ্বালানি, পানি ও পরিবহন খাতেও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, সরকারি ব্যয় বাড়ালেও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে এবং দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নীতিই অনুসরণ করবে তার সরকার।
অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টি বার্নহামের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। দলটির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক দাবি করেন, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পরিবর্তে দেশের অর্থনীতি, করব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা ও কল্যাণ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই অ্যান্ডি বার্নহামের এই ভাষণ আগামী দিনের ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এর মাধ্যমে তিনি শুধু নেতৃত্বের দাবি জোরালো করেননি, বরং লেবার সরকারের সম্ভাব্য নীতিগত দিকনির্দেশনাও তুলে ধরেছেন।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন