রাজনীতি

ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু ঘিরে রহস্য

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ ১৪:৩০

নিহত আবু কাউসার

চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় আবু কাউসার আহমেদ (২৭) নামে ছাত্রলীগের এক নেতার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে সাগরিকা ফ্লাইওভার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ।

নিহত আবু কাউসার চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে ভিন্ন আলোচনা চলছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কাউসারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

ছাত্রলীগের কয়েকজন সাবেক নেতা ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন কাউসার। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল সিদ্দিকী বলেন, কাউসারের মৃত্যু “রহস্যজনক” এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সংগঠনের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কাউসার নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং মাদকাসক্তির সমস্যাও ছিল।

তবে স্বজন ও পরিচিতদের একটি অংশ বলছে, শুধু প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখলে প্রকৃত সত্য আড়াল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পাহাড়তলী থানার এক কর্মকর্তা জানান, মরদেহে দৃশ্যমান বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন