জামালপুর বি.প্র. বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ ০৪:২০
ছবি: সংগৃহীত
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ও গবেষণা জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, বিতর্কিত ও অভিযোগমুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে সরকার কি দলীয় বিবেচনাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে?
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭’-এর অধীনে তাকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নিয়োগ ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষক মহল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কারণ এর আগেই তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গবেষণাপত্রে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য, বডি শেমিং, মানসিক নির্যাতন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও দীর্ঘ সময়েও বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
এছাড়া গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগেও এর আগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া। অভিযোগ ছিল, পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি পুরোনো গবেষণার তথ্য ব্যবহার করে যথাযথ অনুমতি ছাড়া নতুন গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তার বিরুদ্ধে গঠিত স্ট্রাকচারাল কমিটির তদন্ত এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। এমন অবস্থায় তাকে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
শিক্ষাঙ্গনের অনেকে মনে করছেন, অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এমন নিয়োগ উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে যৌন হয়রানির অভিযোগ থাকা একজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসানো নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, যোগ্যতা ও নৈতিকতার চেয়ে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা দলীয় বিবেচনাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন