গাজীপুরের ৫ খুনে শোকের মাতম
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ ২৩:১৮
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নির্মম হত্যার ঘটনায় শোক ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের একটি গ্রাম। নিহত মা, তার তিন শিশু সন্তান ও ভাইকে রোববার (১০ মে) জানাজা শেষে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে দাফন করা হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন কবরস্থানে।
রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নিহতদের মরদেহবাহী ফ্রিজিং ভ্যান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। গ্রামের মানুষজন শেষবারের মতো নিহতদের দেখতে ছুটে আসেন।
নিহতরা হলেন—শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।
বেলা ১১টার দিকে পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন। পরে উত্তর চরপাড়া নতুন কবরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।
শনিবার সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট, টাইপ করা কিছু কাগজপত্র এবং মাদকসেবনের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত শারমিনের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও স্বামী ফোরকান মিয়ার সন্দেহপ্রবণ আচরণের কারণে পরিবারে অশান্তি চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধও ছিল বলে দাবি স্বজনদের।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া কয়েকজন স্বজনকে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্তে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডির একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন