বাংলাদেশ

৬ নবজাতকের মৃত্যু

আদ-দ্বীন হাসপাতালে অবহেলা, বিশৃঙ্খলা ও বাণিজ্যিক চিকিৎসা নিয়ে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬ ০২:০৭

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বে অবহেলা এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিআইডি ও পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বুধবার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, নবজাতকদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় “দুর্বলতা” পাওয়া গেছে। তিনি জানান, অসুস্থ শিশুদের ওয়ার্ড থেকে এনআইসিইউতে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাত ২টার দিকে এক অভিভাবকের অনুরোধে ওয়ার্ডের এসি বন্ধ করা হয়। পরে রাত ৪টার দিকে প্রথম একটি নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু সময় এনআইসিইউতে রেখে আবার তাকে একই ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর একে একে আরও কয়েকটি শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুদের অবস্থা খারাপ হলেও চিকিৎসক ও নার্সরা প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করেন। একজন স্বজন অভিযোগ করেন, শিশুর মৃত্যুর পরও ওষুধ আনতে পাঠানো হয় এবং বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। পরে জানানো হয় শিশুটির হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় “অবহেলাজনিত মৃত্যু”র অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহেদ রায়হান বলেছেন, “এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে ৬টি নবজাতকের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এখানে টেকনিক্যাল বা ব্যবস্থাপনাগত কোনো বড় ত্রুটি থাকতে পারে।” তিনি জানান, সিআইডির প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালের এসি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদ-দ্বীন হাসপাতালের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বহু রোগীর স্বজন অভিযোগ করেছেন, “অলাভজনক” প্রতিষ্ঠান দাবি করলেও গত কয়েক বছরে চিকিৎসা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। আগে যেখানে সিজারিয়ান ডেলিভারিতে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা ৩০-৩৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

হাসপাতালটিকে ঘিরে অব্যবস্থাপনা, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং অতিরিক্ত বাণিজ্যিক মনোভাবের অভিযোগও সামনে এসেছে। অনেকেই বলছেন, “কম খরচে মানবিক চিকিৎসা”র যে সুনাম ছিল, এই ঘটনায় তা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।

বর্তমানে হাসপাতালটির সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বন্ধ রেখে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন