প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ ০৪:৪২
ছবি: বাসস
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিশ্রুতি আর অঙ্গীকারের সময় পেরিয়ে গেছে, এখন প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ এবং কার্যকর ফলাফল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আজ কেবল পরিবেশগত সংকট নয়, এটি মানবজীবন, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তাই জলবায়ু কার্যক্রমকে ব্যয় হিসেবে নয়, বরং একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আসন্ন কপ-৩১ ও কপ-৩২ সম্মেলনের আগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রথমত ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতির স্তর থেকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো সহজে সহায়তা পায়।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও প্রয়োজনভিত্তিক করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
তৃতীয়ত, প্রশমন কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিযোজন ব্যবস্থাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য অভিযোজন কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি অস্তিত্ব রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।
সরকারের বিভিন্ন জলবায়ুবান্ধব কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যা ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, পানি নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকীকরণের কাজও চলছে।
পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী সবুজ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এর ফলে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব শিল্প, পাটভিত্তিক পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং কার্বন বাজার গঠনের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড (LEED) সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে বর্তমানে ৬৯টিই বাংলাদেশের, যা দেশের সবুজ উৎপাদন সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে রেখে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “লাখো মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ আজ ঝুঁকির মুখে। তাই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। কপ-৩১ সম্মেলনের মাধ্যমে প্যারিস চুক্তি ও ইউএনএফসিসিসির লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে বলে আমরা আশা করি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগে দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত এবং একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন