বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পেল সিলেটের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, শিগগিরই চালুর আশা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ ১১:৫৭

ছবি: বায়ান্ন নিউজ

আবুল কাশেম রুমন: দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ শেষ হলেও চালু না হওয়া সিলেটের বহুল প্রতীক্ষিত ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল অবশেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় নির্মিত হাসপাতালটি শিগগিরই চালু হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৫ জুন) হাসপাতালটির অনুমোদনের তথ্য নিশ্চিত করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মক্তাদির।

তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিলেটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে।”

এ সময় হাসপাতালটির অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় এটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল হাসপাতাল

প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালে এবং ২০২৩ সালেই ভবনের নির্মাণ শেষ হয়। তবে পরিচালনার দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠান নেবে, তা নির্ধারণ না হওয়ায় হাসপাতালটি এতদিন চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক ভবনটি দীর্ঘ সময় প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

গত ৩১ মে সিলেট সফরে এসে বাণিজ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ২০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।

আধুনিক সব সুবিধা থাকবে

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনের আটতলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালটিতে রয়েছে—

* ২৫০টি শয্যা
* ১৯টি আইসিইউ বেড
* ৯টি সিসিইউ বেড
* ৪০টি কেবিন
* আধুনিক অপারেশন থিয়েটার
* ডায়াগনস্টিক বিভাগ
* গাইনি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু ও নাক-কান-গলা বিভাগ
* বহির্বিভাগ, কনসালট্যান্ট চেম্বার ও কার পার্কিং সুবিধা

তবে হাসপাতালটি চালুর আগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন, জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা

সিলেট মহানগর ও আশপাশের জেলার মানুষের জন্য হাসপাতালটি চালু হলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ সরকারি পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আরও একটি বড় সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন