বাংলাদেশ

ধর্ষণের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ ১৮:৫০

দেশে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ জন নারী ও শিশুর নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সপ্তম দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে স্থাপিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাব এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে এ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিচার পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএনএ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী বা অভিযুক্তের সম্মতি ছাড়াই ডিএনএ পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সেবা দিতে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ১৪টি ওসিসিতে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন ও আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬৭৮ জন।

এ ছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নারী ও শিশুকে তথ্য, আইনি পরামর্শ, উদ্ধার, মনোসামাজিক কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকার ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং আঞ্চলিক ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারগুলোর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হেল্পলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।

এ সময় তিনি জানান, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন