বাংলাদেশ

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ ও সিআইডি

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ ১৩:২২

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স ছিল মাত্র এক থেকে দুই দিন। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বুধবার (২৭ মে) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কী কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যেই পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ৬ নবজাতক ও তাদের ১১ জন মা ভর্তি ছিলেন। বুধবার ভোরে দায়িত্বরত নার্সদের কাছে কয়েকজন মা শিশুদের অসুস্থতার বিষয়টি জানান। পরে দ্রুত নবজাতকদের এনআইসিইউতে নেওয়া হলে দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি চার শিশুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদেরও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

আদ-দ্বীন হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন জানান, ঘটনার পরপরই চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শিশুদের বাঁচানো যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ঠান্ডা অনুভব করায় এক অভিভাবকের অনুরোধে ওয়ার্ডের এসি প্রায় এক ঘণ্টার মতো বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে গরম অনুভূত হলে আবার এসি চালু করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর একে একে শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সিআইডির ক্রাইম টিম আলামত সংগ্রহ করছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।”

ঘটনার পর হাসপাতালটিতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল এলাকা। একসঙ্গে এত নবজাতকের মৃত্যুতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবজাতকদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে তাপমাত্রা ও অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ফলে সামান্য অব্যবস্থাপনাও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগও তদন্তে নামছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন