বাংলাদেশ

দেশজুড়ে বজ্রপাতের তাণ্ডবে একদিনে ৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ ০৩:৫০

বোরো ধান কাটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলায় আবারও প্রাণ কেড়ে নিল বজ্রপাত।

বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নাটোরে বজ্রাঘাতে অন্তত আট কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশই খোলা মাঠে ধান বা ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ধরনের ঝড়ো আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় দুপুরের পর বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর মধ্যেই একের পর এক বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে নওগাঁ জেলায়। নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় বজ্রাঘাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বুধবার বিকেলে জানান, হাজিনগর ইউনিয়নে জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে এক শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সময়ে চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ধান তোলার সময় অনুকূল চন্দ্র মোহন্ত নামে আরেক কৃষক বজ্রাঘাতে নিহত হন।

অন্যদিকে মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুড়াপাড়া গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে কৃষক দিলীপ চন্দ্র বর্মণ মারা যান বলে জানিয়েছেন মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুক।

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে ওবায়দুল হক নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, দুপুরে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মাঠ থেকে ফিরতে পারেননি।

এদিকে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্যারহাট এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে ইউসুফ আলী নিহত হন।

ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে মারা যান কৃষক আব্দুর রাশিদ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, আচমকা বজ্রপাতের সময় তিনি খোলা মাঠে ছিলেন।

একইদিন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে সোহেল মিয়া নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের নওসাড়া সুলতানপুর চরে কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে নিহত হন আজিজ মণ্ডল।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকরা এখনো বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতন নন। ঝড়ের সময় খোলা মাঠে কাজ করা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে না যাওয়ার কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান, যাদের বড় অংশই কৃষক। বিশেষজ্ঞরা মাঠপর্যায়ে আরও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন