বাংলাদেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইপিআই কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ ১৪:৩৫

পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বুধবার (৬ মে) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও টিডি ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ইপিআই একটি সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কর্মসূচি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।” তবে বর্তমান সরকার শিশুদের জীবনরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইপিআই কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশু ও নারীদের ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

একটি যৌথ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ পরিচালিত এই কর্মসূচি প্রতি বছর প্রায় এক লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করছে এবং প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, সরকার দ্রুত অর্থ ছাড় দেওয়ায় ইউনিসেফ ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু করেছে। ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। আর বুধবার অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও টিডি ভ্যাকসিন এসেছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী ১০ মের মধ্যে আরও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে। এর মাধ্যমে ১০ ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউনিসেফ সব ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন করবে। একইসঙ্গে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন মজুত পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে তিন মাসের বাফার স্টক থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন সরবরাহ আসার পর অন্যান্য ভ্যাকসিনেও আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করছে সরকার।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন