প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১৪
বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার পক্ষে নয় বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, সব ধর্মই মানুষকে শান্তি, মানবিকতা ও কল্যাণের শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণের মধ্য দিয়েই একটি সহনশীল ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মেই মানুষের জন্য নৈতিক শিক্ষা রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মে মহামতি গৌতম বুদ্ধ যে পঞ্চশীল নীতির কথা বলেছেন, সেখানে হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবের প্রতি দয়ার কথাও বলা হয়েছে। এসব শিক্ষা শুধু একটি ধর্মের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন সঠিকভাবে পালন করেন, তাহলে দেশে মানবিকতা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে সব মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার।” বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ সবাই রাষ্ট্রের সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই সরকারের নীতি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় মানুষ ধর্মীয় পরিচয়ে বিভক্ত হয়নি। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই একসঙ্গে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। তাই এই দেশ সবার।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। এ কারণে কাউকে নিজেকে সংখ্যালঘু মনে করার প্রয়োজন নেই। “আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি”— যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন