দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) পটুয়াখালী, জামালপুর, বরগুনা, ময়মনসিংহ, বাগেরহাট, রংপুর ও রাজবাড়ীতে এসব ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীতে। জেলার রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে চারজন মারা গেছেন। তারা হলেন সৌরভ মজুমদার, জহির উদ্দিন, সেতারা বেগম ও খালেক হাওলাদার। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের সময় মাঠে কাজ করা ও গরু আনতে গিয়ে তারা বজ্রপাতে নিহত হন। এছাড়া গত দুই দিনে জেলায় অর্ধশতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
জামালপুরের ইসলামপুরে পৃথক ঘটনায় মারা গেছেন দুইজন। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে শামীম মিয়া এবং রাস্তার কাজ করার সময় শ্রমিক সাগর ইসলাম বজ্রপাতে নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বরগুনার পাথরঘাটা ও আমতলীতে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন জেলে আল-আমীন ও কৃষক নূরজামাল। আমতলী উপজেলা প্রশাসন নিহত কৃষকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলে জানিয়েছে।
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবক। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির সময় নদীতে অবস্থান করায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বাগেরহাট সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন দিনমজুর রবিন হাওলাদার। অন্যদিকে রংপুরের তারাগঞ্জে বাড়ির পাশে খড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন সুমন মন্ডল নামে এক যুবক। সকালে মেয়েকে কোলে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছোট মেয়ে সামান্য আহত হলেও বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশাখের এই সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, নদী বা গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন