বাংলাদেশ

ঈদ যাত্রায় সড়কে প্রাণহানি

৭ দিনে নিহত ২০৪ জন: সরকারি হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৭

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যাওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে ৯২টি দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। কিন্তু একটি বেসরকারি সংস্থার প্রাথমিক হিসাবে একই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২০৪ জন এবং আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পরিসংখ্যানে অনেক বড় দুর্ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কুমিল্লার একটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হলেও তা সরকারি তালিকায় নেই বলে জানা গেছে।

ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নেন। অন্যান্য হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক সংশ্লিষ্ট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রা সাধারণত ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে চলে। গত বছর একই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে এই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১৬ জন, যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ। সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও ছুটি চলমান থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি।

বেসরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য প্রাথমিক। পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি সাধারণত বেশি থাকে। কারণ এ সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে ঈদকেন্দ্রিক দুর্ঘটনার এই চিত্র ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন