বাংলাদেশ

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করছে সরকার

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬:৩১

সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির  এর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল মওকুফ করা হবে। এর মূল লক্ষ্য দরিদ্র কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক এর তথ্য অনুযায়ী, সরকারি, বেসরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর কাছে কৃষকদের চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুদসহ প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা ঋণ বকেয়া রয়েছে। এই ঋণই মওকুফের আওতায় আসবে।

ঋণ মওকুফ কার্যকর হলে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি লাভবান হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে কৃষিকাজে মনোযোগ দিতে পারবেন। কিস্তির জন্য যে অর্থ ব্যয় হতো, তা উন্নত বীজ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি বা অন্যান্য কৃষি উপকরণে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।

এ উদ্যোগ কৃষকদের ক্রেডিট ইতিহাস উন্নত করতে সহায়তা করবে এবং তারা ব্যাংক থেকে ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় মহাজনী উচ্চ সুদের ঋণের নির্ভরতা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ঋণের বোঝা কমে গেলে কৃষকরা শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে অধিক আগ্রহী হবেন। এর ফলে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে। পাশাপাশি গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১–১৯৯৬ মেয়াদে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন