বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান, বিরোধী দলে জামায়াত

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:২৫

সপরিবারে তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। দুই তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে বিএনপি। দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে তাদের অবস্থান দ্বিতীয়।

বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৭৫টিতে জয় পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৫৬টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি জয়ী হয়েছে ৬টিতে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা মিলিয়ে পেয়েছেন ১১টি আসন। এখনো ৪২টি আসনের ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়াধীন।

নির্বাচনের আগেই বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। এবারই প্রথম তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন এবং ঢাকা ১৭ ও বগুড়া ৬ আসনে জয়লাভ করেন। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব এখন কার্যত নিশ্চিত।

সংখ্যার রাজনীতিতে বিএনপির এই সাফল্য তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং ভোটারদের বড় অংশের সমর্থনের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, জামায়াতের উল্লেখযোগ্য আসন পাওয়া সংসদে শক্তিশালী বিরোধী রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এবার ৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুর ৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র ২৭৩ জন এবং নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন।

সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। নির্বাচনের নিরাপত্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবসহ প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের ফল দেশের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদীয় বিতর্ক, নীতি নির্ধারণ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন