বাংলাদেশ

সারা দেশে প্রায় ৯ হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫:৫২

আইজিপি বাহারুল আলম

বায়ান্ননিউজ২৪ ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি আরও প্রায় ১৬ হাজার ভোটকেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম।

মঙ্গলবার রাজধানীর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

আইজিপি বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্য এবং প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ প্রধান। তার ভাষায়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে। কেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল টিম নিয়মিত টহল দেবে এবং যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।

প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে আইজিপি জানান, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। প্রয়োজনে জেলা পর্যায়ে ড্রোন ক্যামেরার সহায়তাও নেওয়া হবে।

অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচনকালীন সময়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। তিনি জানান, লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে এক হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেকোনও অবৈধ অস্ত্রই নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাই এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে আইজিপি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত হয়েছেন এবং পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, একটি মৃত্যুও অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তিন হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন শুটারের তালিকা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, এই তালিকার উৎস সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ১৮ কোটির বেশি মানুষের দেশে এ সংখ্যক অপরাধী নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে এমন আশঙ্কা নেই।

সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরাচারী শাসনের প্রভাব এক বছরে পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের পেশাদার আচরণ উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন সময়ে কিছু আশঙ্কা থাকলেও বর্তমানে নির্বাচন ব্যাহত করার মতো কোনও সক্রিয় ও শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে আইজিপি বলেন, এই নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। কতটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবেন দেশের মানুষ।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন