প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩:১১
মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী
আইরিন খান: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রোববার থেকে সারাদেশে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী অপরাধ দমন ও আচরণবিধি বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করবেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
রোববার নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। এদিন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
নির্বাচন কমিশন জানায়, সেনাবাহিনী আগেও দায়িত্বে ছিল, তবে রোববার থেকে তাদের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। কমিশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখবে এবং সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করা হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূল উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং নির্বাচনের পরিবেশ সহায়ক রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার। পুলিশ থাকবেন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ১ লাখ। বিজিবি ৩৫ হাজার। বিজিবি র্যাব এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কোস্টগার্ড।
নির্বাচন কমিশন জানায়, সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভিন্নতা রাখা হয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। দুর্গম ২৫ জেলার দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে ১৬ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে হবে। এবার ২৯৯টি আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। ১৩ কোটি ভোটারের জন্য সারাদেশে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন