প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:২৩
নির্বাচনের আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশসহ মোট সাতটি অধ্যাদেশ, একটি আন্তর্জাতিক ট্রিটি এবং একটি নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি জানান, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ নিয়ে আলোচনা শেষে তা পুনরায় পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফিনান্স করপোরেশন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং জুয়া প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্স ট্রিটির খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে।
প্রেস সচিব আরও জানান, তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া অনুমোদনের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টে সইয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা ২০২৬ পুনরায় পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে সংযুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হবে। এসব কলেজের নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।
অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামোর বিধান রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে। শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হাতে।
কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে পৃথক স্কুল থাকবে এবং প্রতিটি স্কুলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন হেড অব স্কুল। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান ও মূল্যায়ন অভিন্ন সময়সূচি ও কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে। এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য ছাড়াই দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেস সচিব জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত সাতটি কলেজের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে সহায়ক হবে এবং রাজধানীতে একটি সমন্বিত, আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলবে। এই অধ্যাদেশ ঢাকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/সৈকত
প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন