প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:৪১
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে সংঘটিত কর্মকাণ্ডকে আইনি সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ অনুমোদন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অধ্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত সব কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্টরা ফৌজদারি দায় থেকে দায়মুক্তি পাবেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত কার্যাবলিকে বোঝানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সংঘটিত এমন কর্মকাণ্ডের কারণে যেসব ফৌজদারি মামলা হয়েছে, সরকার সেগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য নতুন কোনো মামলা করা যাবে না।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত শত্রুতা, লোভ বা সংকীর্ণ স্বার্থে কেউ যদি হত্যাকাণ্ড বা গুরুতর অপরাধ করে থাকে, তবে সে এই দায়মুক্তির আওতায় আসবে না। কোন ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ আর কোনটি ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হয়েছে তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে কমিশনে আবেদন করতে পারবে এবং কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশের প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য হবে।
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়মুক্তি দেওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে এবং অতীতেও এর নজির আছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়েও দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে সময়সীমা শুধু জুলাই ও আগস্ট মাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
এই অধ্যাদেশ অনুমোদনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি সরকারের জন্য একটি কালো আইন, যার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ও তাদের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস, পুলিশ হত্যা এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর সহিংস হামলার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এসব অপরাধকে রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।
তাদের মতে, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হবে। ফলে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ
প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন