প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ০৫:২০
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বুধবার কমিশন তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে ।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের বেতন কাঠামো সংস্কারের সুপারিশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য আগের মতোই ২০টি বেতন গ্রেড বজায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।
বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের কমিশন প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি বড় ও সময়োপযোগী কাজ। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এই সংস্কারের অপেক্ষায় ছিল। প্রস্তাবনায় সৃজনশীলতা ও বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য শিগগিরই একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হবে, যারা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করবে।
কমিশনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সময়োপযোগী বেতন কাঠামো না থাকায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রস্তুতে কমিশন অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করেছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত গ্রহণ করেছে।
নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যবীমা চালু, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, ভাতা কাঠামোর যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মধ্যে বেতনের ব্যবধান ১:৮ অনুপাতে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন