প্রচ্ছদ

জাতীয় সংগীত গাওয়ায় পলকের বিশেষ সুবিধা বাতিল, সমালোচনার ঝড়

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:১৪

প্রিজনভ্যানে জাতীয় সংগীত গাচ্ছেন জুনায়েদ আহমদ পলক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা শেষে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে ফেরার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার অভিযোগে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কারাগার সংশ্লিষ্ট বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার আইনজীবী পক্ষ। বিষয়টি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ ‘আমার সোনার বাংলা’ গাইলে হয়তো ফাঁসি দেওয়া হতো; অথচ ২০২৪ সালের হানাদার বাহিনী জাতীয় সংগীত গাওয়ার কারণে পলকের বিশেষ সুবিধা বন্ধ করেছে। তিনি লিখেছেন, পলক বিশেষ সুবিধা ছাড়া বাঁচতেই পারবেন, আর যদি মারা যান তাহলে জাতীয় সংগীত গাওয়ার ‘অপরাধে’ মারা যাবেন—এত বড় সম্মানের মৃত্যু আর কী হতে পারে। তার এই পোস্ট ঘিরে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বহু নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে এ অভিযোগ তোলেন পলকের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. লিটন আহমেদ। তিনি বলেন, পলক পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে পূর্বে যেভাবে সাক্ষাৎ বা টেলিফোনে কথা বলার সুবিধা পেতেন, প্রিজনভ্যানে জাতীয় সংগীত গাওয়া এবং জয় বাংলা স্লোগানের পর এসব সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল পরে নির্দেশ দেবেন বলেও তার আইনজীবী জানিয়েছেন।

জেল কোড ও দ্য প্রিজন্স অ্যাক্ট ১৮৯৪ অনুযায়ী বন্দিরা আইনজীবী, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ অনুমোদিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের অধিকার রাখলেও, কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ চাইলে এসব সুবিধা সাময়িকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে পারে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ডিভিশন বাতিল, সুবিধা হ্রাস, একাকী কারাবাস বা অতিরিক্ত কাজের মতো শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে, যা কারা বিধির অধীনে প্রয়োগ করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে; তবে পলকের ক্ষেত্রে কোন অভিযোগে এবং ঠিক কী ভিত্তিতে সুবিধা বাতিল হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জানায়নি।

এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, জাতীয় সংগীত গাওয়া বা ‘জয় বাংলা’ বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে কীভাবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বহু নাগরিক লিখেছেন, জাতীয় সংগীত গাওয়া স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক; সেটিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অনেকে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।

পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে হাজিরার পর পলকের প্রিজনভ্যানে জাতীয় সংগীত গাওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর ঠিক পরদিনই তার বিশেষ সুবিধা বাতিলের অভিযোগ সামনে আসে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা—উভয়ই এখন জনদৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটরইনচীফ

প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন