প্রচ্ছদ

প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের সাজা: অভিযোগ প্রতিহিংসার বিচার

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:১২

শেখ হাসিনা

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা তিন মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। প্রতিটি মামলায় ৭ বছর করে সাজা ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। রায় ঘোষণার সময় শেখ হাসিনা পলাতক থাকায় তার পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

রায় অনুযায়ী এই তিন মামলায় আসামি ছিলেন মোট ২৩ জন। এর মধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, আরেকটিতে শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন এবং অপর মামলায় শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন আসামি হিসেবে ছিলেন।

দুদক অভিযোগ করে যে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরে ৬টি প্লট অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ নেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়— তারা প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও “গরিব” হিসেবে দেখিয়ে আবেদন করা হয় এবং সরকারি জমি আত্মসাৎ করা হয়। জয় ও পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তারা মাকে প্রভাবিত করে অবৈধভাবে ১০ কাঠার প্লট নেন এবং সম্পত্তির তথ্য গোপন করেন।

দুদকের তদন্তে আরও উঠে আসে— প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নথি বিনষ্ট বা গায়েব করে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করেন।

এর আগে গত জানুয়ারিতে এ মামলাগুলো দায়ের করে দুদক এবং গত জুলাইয়ে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়।

সমালোচকদের দাবি: ‘প্রতিহিংসা ও ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়া’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থক এবং কিছু আইন বিশেষজ্ঞ অভিযোগ করছেন—

এই মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে এবং পুরো বিচারপ্রক্রিয়াতেই গুরুতর ত্রুটি রয়েছে।

তাদের দাবি—

পলাতক দেখিয়ে আসামিপক্ষকে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি মামলাগুলোতে দ্রুত রায় দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা হয়েছে

সমালোচকদের মতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় এই রায় “টার্গেটেড” ও “বাছাইকৃত বিচার”।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন দমনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পূর্ববর্তী এক রায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।

বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক মামলাগুলোর প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা নতুন নয়।

২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন, যদিও পরবর্তীতে ইউনিয়ন সরকারের পতনের পর আপিল বিভাগ থেকে খালাস পান। এরশাদ সরকার আমলেও দুর্নীতি সংক্রান্ত বহু মামলায় সাজা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এসব মামলা প্রায়ই “অবস্থানভেদে বিচার” বিতর্ক তৈরি করে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ

প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন