লন্ডনের এনফিল্ডে পন্ডার্স এন্ড এলাকায় এক ভয়াবহ ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় মারা গেছেন ৭৬ বছর বয়সী জালাল খান নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি। অক্টোবর মাসের ত্রিশ তারিখ সকাল এগারোটা সাত মিনিটের দিকে স্থানীয় একটি পোস্ট অফিস সংলগ্ন স্থানে তিনি ক্যাশআউট করতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল এবং তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেয়া হয়। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর নভেম্বরের উনিশ তারিখে তিনি মারা যান।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে দ্রুত এলাকায় থাকা সিসিটিভি এবং দরজার ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তদন্তের ভিত্তিতে তারা এনফিল্ডের সোয়ান ওয়াক এলাকার চল্লিশ বছর বয়সী জেসিস বোয়াটসওয়াইনকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক আঘাত, ছিনতাই, হামলা এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি হাইবেরি ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হওয়ার পর রিমান্ডে পাঠানো হয় এবং মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য উড গ্রিন ক্রাউন কোর্টে স্থানান্তরিত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে জালাল খান ছিলেন অত্যন্ত শান্তস্বভাব ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। প্রতিবেশীরা জানান তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতেন এবং সবার সঙ্গে সদাচরণ করতেন। স্থানীয় দোকানি রাসেল আলম বলেন যে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র মনের মানুষ এবং তাঁর মৃত্যু কমিউনিটিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আরেকজন প্রতিবেশী বলেন যে জালাল খান ছিলেন আদর্শ প্রতিবেশী এবং কখনও কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে যে মৃতের পরিবার বর্তমানে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে এবং তারা গণমাধ্যমের দৃষ্টি থেকে দূরে থাকতে চান। পুলিশ তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে গণমাধ্যমকে সংযত থাকার অনুরোধ জানায়। একই সঙ্গে তারা আরও জানায় যে যে কেউ যদি ঘটনার দিন কোনো ধরনের তথ্য দেখে থাকেন, তাহলে যেন দ্রুত পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন কারণ এই মামলার জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
এই ঘটনা লন্ডনের জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বয়সী মানুষদের নিরাপত্তা, একাকী ক্যাশআউট করার ঝুঁকি এবং রাতের বেলার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি সহ দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং কমিউনিটি ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার দাবি জোরালো হচ্ছে।
সূত্র: দ্য লন্ডন ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড রিপোর্টিং ও মেট্রোপলিটন পুলিশ।
প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন