বিজ্ঞান

বুধবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান থাকবে

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১২:৫০

বুধবার আকাশে দেখা যাবে ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য ও বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাংলাদেশেও সন্ধ্যার দিকে গ্রহণের নির্দিষ্ট অংশ দেখা যাবে।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়। ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে প্রতিসারিত সূর্যালোর লাল অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। এ কারণে গ্রহণের সময় চাঁদ তামাটে বা লালচে আভা ধারণ করে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখানোর পেছনে যে বৈজ্ঞানিক কারণ কাজ করে, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের লাল দেখানোর ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।

 

গ্রহণের সময়সূচি

আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী গ্রহণের বিভিন্ন ধাপের সময় নিম্নরূপ

উপচ্ছায়ায় প্রবেশ: দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

পূর্ণগ্রাস শুরু: বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড

কেন্দ্রীয় গ্রহণ: বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ড

সর্বোচ্চ মাত্রা: ১ দশমিক ১১৫

সম্পূর্ণ সমাপ্তি: রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড

 

কোথায় সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে

গ্রহণের কেন্দ্রীয় গতিপথ থাকবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে এটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। এছাড়া কিংম্যান রিফ জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হাওল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং মাইক্রোনেশিয়ার কোসরাই অঞ্চলেও গ্রহণটি পরিষ্কার দেখা যাবে।

 

বাংলাদেশে কখন দেখা যাবে

বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে গ্রহণের শেষাংশ দেখা যাবে। বিভাগীয় শহরভেদে সময় কিছুটা পার্থক্য থাকবে।

ঢাকা: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ১২ সেকেন্ড

চট্টগ্রাম: বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

সিলেট: বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

রাজশাহী: সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

খুলনা: সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড

বরিশাল: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড

ময়মনসিংহ: সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

রংপুর: সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খোলা আকাশের নিচে খালি চোখেই গ্রহণের দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। বিশেষ কোনো সুরক্ষা সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মহাজাগতিক ঘটনা। এর সঙ্গে কোনো অশুভ ইঙ্গিত বা আশঙ্কার সম্পর্ক নেই। বরং জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

বিজ্ঞান থেকে আরো পড়ুন