প্রচ্ছদ

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:২৬

সুপ্রিম কোর্ট

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বহুল সমালোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের আগের রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে আদালত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে পুনরায় বৈধতা দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্যান্য বিচারপতিরা হলেন—

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম,

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী,

বিচারপতি মো. রেজাউল হক,

বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক,

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষ আইনজীবী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ছিল।

আসন্ন নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে

রায়ে বলা হয়েছে—তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ ফিরে এলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। তবে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। বিচারপতিরা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত দেন।

দশ দিনব্যাপী শুনানির পর চূড়ান্ত রায়

১১ নভেম্বর থেকে টানা দশ দিনের শুনানি শেষে ২০ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ২১ অক্টোবর থেকে ২, ৪, ৫, ৬, ১১ নভেম্বর এবং ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে।

কারা শুনানিতে ছিলেন?

রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জামায়াতে ইসলামের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ইন্টারভেনর হিসেবে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক

রায়ের পটভূমি

১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়। পরে ১৯৯৮ সালে এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।

২০০৪ সালে হাইকোর্ট এ রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে এসংক্রান্ত আপিল শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন, যার পর সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী।

কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। এরপর ধাপে ধাপে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও আপিল করেন।

অবশেষে সেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আজ পুনর্বহাল হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

 বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন