প্রচ্ছদ

বিতর্কিত রায়কে ঘিরে উত্তেজনা: দেশজুড়ে আতংক-অস্থিরতা

তাঁদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আর রায়ের তারিখ ও প্রক্রিয়া “প্রতিশোধমূলক মনোভাবের প্রতিফলন”।

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৫:৩২

সিলেটে আগুনে পুড়েছে সরকারি এম্বুলেন্স

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সোমবার ঘোষিতব্য রায়কে ঘিরে উত্তেজনা চরমে ওঠেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা রায়টিকে আগেই “বিতর্কিত” বলে দাবি করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, এই রায় সরকারের শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ।

রায়ের আগের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজধানীসহ সারাদেশে ১০টি গাড়িতে আগুন, গ্রামীণ ব্যাংকের দুটি শাখায় পেট্রলবোমা, এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের মতো সমন্বিত নাশকতার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাগুলোর সময় ও স্থান নির্বাচন থেকে স্পষ্ট দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

একাধিক স্থানীয় প্রশাসন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতারা বায়ান্ননিউজকে জানিয়েছেন—রায়কে ঘিরে দলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে দেখা গেছে সেই ক্ষোভের প্রকাশও। তাঁদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আর রায়ের তারিখ ও প্রক্রিয়া “প্রতিশোধমূলক মনোভাবের প্রতিফলন”।

তবে সরকারপক্ষ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হামলাগুলো সম্পূর্ণ পরিকল্পিত নাশকতা, যার উদ্দেশ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা। পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, অন্তত কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, তদন্ত চলছে।

নাশকতা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১,৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে।

সিলেট, সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ একাধিক স্থানে গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সে আগুন দেওয়ার ঘটনাটিকে অনেকেই “অমানবিক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্ট সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এ অনুরোধই প্রমাণ করে, রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে উত্তেজনা কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে।

মাদারীপুরের গোপালপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে গাছ ফেলে চার ঘণ্টা অবরোধের ঘটনাতেও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

সার্বিকভাবে দেশজুড়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। সরকার এটিকে সমন্বিত নাশকতা বলে দাবি করলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ বলছে, এই ঘটনা মূলত “বিতর্কিত রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ”। অন্যদিকে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন—রায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তাপ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে, যা এখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ

প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন