বিবিসিকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানান—গত বছরের জুলাইয়ের আন্দোলনে সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে তার কোনো ‘ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী নির্দেশ’ ছিল না।
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৩২
শেখ হাসিনা।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী করার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া এই নেতা বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো “পূর্বনির্ধারিত, প্রতিহিংসামূলক এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাজানো নাটক।”
সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানান—গত বছরের জুলাইয়ের আন্দোলনে সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে তার কোনো ‘ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী নির্দেশ’ ছিল না। বরং বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে গিয়ে পরিস্থিতি কিছু সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার অনুপস্থিতিতে পরিচালিত এই বিচার প্রক্রিয়া “ক্যাঙ্গারু কোর্টের মতো সাজানো একটি প্রহসন”, যেখানে তাকে নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগের সুযোগও দেওয়া হয়নি। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আওয়ামী লীগকে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েই এসব মামলা করেছে।
ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করলেও শেখ হাসিনার আইনজীবীরা জাতিসংঘে জরুরি আপিল দাখিল করেছেন, যেখানে ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গোপন কারাগার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোকেও ভিত্তিহীন দাবি করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “এসব কার্যক্রম সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। কারও অপব্যবহারের প্রমাণ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা উচিত।”
এছাড়া তার ও সাবেক সরকারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলাগুলোও তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলেই মনে করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য নয়, এগুলো সম্পূর্ণ সাজানো।” সূত্র: বিবিসি।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন