প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৫৫
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের ‘দেখামাত্র সন্ত্রাসীদের গুলির নির্দেশ’ দেশে তীব্র উদ্বেগ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজ বলছেন, এই নির্দেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যার বৈধতা দেওয়ার শামিল, যা সরাসরি মানবাধিকার ও সংবিধানের পরিপন্থী। এমন সিদ্ধান্ত আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং নিরাপত্তার নামে ভয় ও দমননীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে মৌখিকভাবে নিজস্ব বেতার বার্তায় থানার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কমিশনার এই নির্দেশ দেন। বার্তায় তিনি বলেন, “শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।” একই সঙ্গে টহল টিমগুলোর সঙ্গে এসএমজি, শটগান, গ্যাসগান ও পিস্তল রাখার নির্দেশ দেন তিনি এবং স্থায়ী চেকপোস্ট ৭টি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করার নির্দেশ দেন। কমিশনার নিজেই এসব নির্দেশনার দায় নেবেন বলেও জানান।
গণমাধ্যমে সিএমপি কমিশনার পরে বলেন, “বাইরে থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এসে নগরবাসীকে গুলি করে চলে যাবে, তা হতে পারে না। তাই সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র ব্রাশফায়ার করার নির্দেশ দিয়েছি। যার হাতে অস্ত্র নেই, তার ওপর গুলি করা হবে না।” তবে এই ব্যাখ্যা বিতর্ক থামাতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠ পর্যায়ে “সন্ত্রাসী” চিহ্নিত করার ক্ষমতা যখন নিম্নপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের হাতে থাকে, তখন নিরপরাধ মানুষও টার্গেট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকারের নীরবতা এই সিদ্ধান্তকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দিচ্ছে। রাষ্ট্র যখন জবাবদিহিমুক্তভাবে অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেয়, তখন তা আর নিরাপত্তা নয়, ভয় সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে যদি গুলি করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তবে সেটি গণতন্ত্রের নয়, দমননীতির চর্চা।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ধারাবাহিক রাজনৈতিক সহিংসতা, গুলিবিনিময় ও হত্যাকাণ্ডের পরও সরকারের কোনো দৃশ্যমান প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা দেখা যায়নি। বরং প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে— যা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।
গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলিতে পাঁচজন আহত হন, একজন নিহত হন। এরপর হালিশহর ও বাকলিয়ায় ধারাবাহিক খুনের ঘটনা ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে কমিশনারের ‘দেখামাত্র গুলি’ নির্দেশ অনেকের কাছে পরিস্থিতি মোকাবেলার বদলে আতঙ্ক তৈরির শামিল মনে হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় শক্তি যদি আইনের বাইরে গিয়ে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়, তবে তা দেশের নাগরিকদের নয়, বরং ভয়ের সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে। সরকারের নীরবতা এবং পুলিশের এমন নির্দেশ একত্রে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়িয়ে তুলছে। নিরাপত্তার নামে রাষ্ট্র যদি ভয় ছড়ায়, তবে সেটিই আসল সন্ত্রাস— যা থামানোর দায়িত্ব সরকারেরই।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন