গেজেটে প্রথমবারের মতো ভোটের প্রচারণায় পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার ও বিদেশ থেকে যে কোনো ধরনের প্রচারণা কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ ০২:৪৩
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আজ রাতে আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ নামে নতুন গেজেট জারি করেছে। গেজেটে প্রথমবারের মতো ভোটের প্রচারণায় পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার ও বিদেশ থেকে যে কোনো ধরনের প্রচারণা কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ গেজেটটি প্রকাশ করেন। গেজেট অনুযায়ী প্রচারণা–আচরণ সংক্রান্ত মূল নির্দেশনাগুলো হলো:
প্রচার ও ব্যাবহারগত বিধান
প্রচারণায় পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ব্যানার ও বিলবোর্ড করা যাবে; তবে সেগুলো পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে করা হবে।
প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন ও রেসিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
প্রচারণার সময় শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে।
যানবাহন সহকারে মিছিল, শোডাউন, মশাল মিছিল ও অনুরূপ আয়োজন করা যাবে না।
আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তি
আচরণবিধি ভাঙার ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধ ধরা গেলে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা ইসির।
অন্যান্য বিধি ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত জেল ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। একই কারণে দলের জন্যও দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড ধার্য করা হয়েছে।
প্রার্থী এবং দলের কাছে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
প্রচার ব্যবস্থা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা
গণমাধ্যমে সংলাপ এবং সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা করার ক্ষেত্রে নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনে একদিনে সব প্রার্থীর ইশতেহার বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রচারণার সময় পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন প্রযুক্তি ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না।
ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারো চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ সব প্রকার ক্ষতিকর কনটেন্ট বানানো ও প্রচার করা নিষিদ্ধ।
প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
গেজেটে আরোপিত বিধান বাস্তবায়নে ইসি সচিব বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও সুশাসিত রাখতে এসব বিধি জরুরি। বিধি লঙ্ঘন প্রতিহত করতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।”
প্রার্থিতাদের জন্য এই নতুন আচরণবিধি কার্যকর বলিয়া ঘোষিত হয়েছে এবং ইসি জানিয়েছে—চলমান সময়সীমার পর থেকে এগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
প্রচ্ছদ থেকে আরো পড়ুন