বিশ্ব

বাবা দিবসে বাবাদের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২২ ১১:২০

dhjghjdf

বাবা তো বাবাই। পরিবারের মূলভিত্তি। বাবা যেন রোদে পোড়া থেকে জমিনটুকু বাঁচাতে মাথার উপর বিশাল গাছের ছায়াটুকু।বাবারা তো এমনই হন, নিজে পায়ে হেঁটে অফিস গিয়ে সন্তানকে স্কুলে যেতে রিকশা ভাড়া যোগান। পুরোনো জুতো পড়ে বছরের পর বছর পার করেন, কিন্তু সন্তানের জন্য নতুন জুতো জোড়া চাই। সন্তানের কাঁধে হাত রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। নিজের ব্যক্তিচিত্তের সকল স্বপ্ন ঝেড়ে ফেলে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতে শরীর-মন ভেঙ্গে পরিশ্রম করেন। ভাঙা চশমার ফাঁকে দেখেন সন্তানের রঙিন ভবিষ্যত। আবার কখনো সন্তানের পাশে বসে কার্ড খেলায় জিতে গেলে শিশুর মতখিলখিলিয়ে হেসে উঠেন। বাবারা তো এমনই হন, এমনই হবার কথা।

বাবারা হন ভিন্ন রকমের। তাঁরা মায়ের মতো মমতার বহির্প্রকাশ করতে জানেন না। তাঁরা ওপরে কঠোর, ভেতরে ঠিক শিশুর মতো। ভালোবাসেন অনেক, কিন্তু প্রকাশ করতে জানেন না। শুধু অগাধ স্নেহে নীরবে প্রমাণ করে যান, তিনিই বাবা; তিনিই আমাদের সবার যত্নে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বলি দেয়া মানুষটি। বাবাদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও আবেগের বহির্প্রকাশে বিশ্বের প্রায় ৮৭টি দেশে জুনের তৃতীয় রোববারটি পালনকরা হয় 'ফাদার্স ডে' বা 'বাবা দিবস' হিসাবে। এ বছর ১৯ জুন পালিত হবে বাবা দিবস। বাবা দিবসে বাবাদের ভালোবাসা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে, কিছু বাবারা তাঁদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধির সাথে। পিতা ও সন্তানের প্রতি তাঁদের আবেগময় বাক্যটুকু তুলে ধরা হলো- আবৃত্তিকার গোপন সাহা বলেন, মনে আছে, কোনো কারণে মায়ের বকুনি খেয়ে কান্না শুরু করে দিলে বাবা কোলে তুলে নিতেন, তারপর কাঁধে নিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করতেন। আর আমি বাবার শরীরের ঐ সুমধুর গন্ধটা পাবার আশায় এমন বেশি বেশি করতাম। বাবার শরীরের ঐ সুঘ্রাণ আমি এখনও বয়ে বেড়াই। এই গন্ধটা কখনও হারাবার নয়-জানি বেঁচে থাকবে আমার জন্মনিরবধি। কবি, লেখক গৌতম চট্টপধ্যায় বলেন, এই পৃথিবীটা খুব ছোট্ট ছিল! বাবার দু'পকেটে হাত ভরা দু'মুঠো চকোলেটের মাঝে আজ পৃথিবীটা অনেক বড়। বাবা নেই!

সেই অসীম আনন্দ আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো পরিবর্তিত! আজও চকোলেট আসে, মেয়ে হাসে। হাত আর পকেট আলাদা সেই প্রদীপ আজও আছে। শুধু বাবার সে আনন্দ আজ হস্তান্তরিত বাবাকে সশ্রদ্ধ বিনম্র নিবেদন। একজন পিতার প্রতি ছোট্ট মেয়ে শিশুটির আবেগময় কিছু স্মরণ করে লেখক, কবি মাসুম আহমেদ বলেন, একবার আমার মেয়েরটিচার তাদেরকে ক্লাসে যার যার পছন্দের সুপার হিরোদের নিয়ে রচনা লিখতে দিয়েছিল। ক্লাসের অন্য সবাই যখন স্পাইডারম্যান, সুপারম্যানদের নিয়ে লিখছিল, তখন আমার মেয়ে আমাকে নিয়েই সে রচনা লিখেছিল। তার টিচার আমাকে একদিন প্যারেন্ট টিচার কনফারেন্সে এই গল্প করে বলেছিলেন, ‘তোমার মেয়েটা তোমাকে খুবই ভালবাসে! সে তোমাকে তার সুপারম্যান মনে করে!’ প্রকাশক, লেখক হুমায়ূন কবীর ঢালী বলেন, বাবা অভিভাবক ও বন্ধু। বাবা দিকনির্দেশকও। সন্তানের মঙ্গল কামনায় বাবার মন সবসময় তৎপর থাকে। সন্তানের জন্য বাবার ত্যাগ চিরকালীন। পৃথিবীতে অমানুষ পুরুষের অভাব নেই। কিন্তু বাবারা কখনো অমানুষ হন না। বাবা অলওয়েজ গুড ম্যান।

লেখক আবদুল্লাহ জাহিদ বলেন, বাবা ছিলেন আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। তাঁর কাছ থেকে সাহস পেয়েছি, শিখেছি জীবনের নানারকম শিক্ষা। তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছি নির্দেশনা ও পেয়েছি উপদেশ। সব বাবাকে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। গীতিকার, কবি রেজা শামীম বলেন, আমার ছয় বছরের ছেলে কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে 'আমি যখন মিডল স্কুলে যাব তখন তোমার বয়স কত হবে।' আমি বলি 'আমি আরো একটু বয়েসী হব।' সে আবার জানতে চায় 'আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে যাব তখন তোমার বয়স কত হবে? তখন তুমি আরো বুড়ো হবে?' তাঁর প্রশ্ন আরো সামনে এগোয়। আর তার উত্তরে আমিও বুড়ো হতে থাকি। একসময় আমাকে বলতেই হয়, 'আমি হয়ত তখন পৃথিবীতে থাকব না।' শুনে ছেলে তাঁর শীর্ণ দুহাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে তাহলে আমি বড়ই হব না। তাঁর শীর্ণ হাতের বাঁধন এত শক্ত হয় যে, আমি তা ছাড়াতে পারি না। ছাড়াতেই চাই না। কবি ভজন দত্ত বলেন, দুষ্টু ছেলেকে শান্ত করার জন্য মায়ের অস্ত্রের নাম ছিল বাবা। বাবা ছিলেন ভয় ও ভরসা, সহায় ও সাহস নামের এক বিরাট ছাতা। বাবা আমার ভয় ও ঘামগন্ধ ভালোবাসা।

লেখক গল্পকার কাজী ইসলাম বলেন, বাবারা সন্তানের জন্য সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতের আধার। আল্লাহতায়ালার সাক্ষাত রহমত হিসেবে বাবারা বিরাজ করেন সন্তানের জীবনে। বাবারা তো বেঁচেই থাকেন সন্তানদের জন্য! আর সন্তানরা? ওরা তো বাবাদেরই অংশ, সেখানে ভালোবাসা তো বহমান রবেই। বাবারা সন্তানদের এবং সন্তানরা বাবাদের জীবনজুড়ে থাকুক। লেখক, গল্পকার আবদুস শহীদ বলেন, এখনও আমার ভোরের আকাশ দেখতে ভীষণ ইচ্ছে করে, যে আকাশের বিশালতায় বাবার আদর লুকিয়ে আছে-ঔরসের গর্ব নিয়ে যে আকাশে চাঁদ হাসে। বাবাকে দেখতে ইচ্ছে করে। সব বাবাকে জানাই বাবা দিবসের শুভেচ্ছা। লেখক, সম্পাদক দুলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, সন্তান বাবার কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে দামি সম্পদ। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাবা পৃথিবীর সব কষ্ট ভুলে যেতে পারে। একসময় বাবাই থাকে সন্তানের আইকন। সুসন্তান কখনো বাবাকে কষ্ট দেয় না। সব বাবাকে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা।  কবি আব্দুল বাতেন বলেন, বাবা এক বসুন্ধরা, নীরব দুর্ভিক্ষের- অন্তরালে রক্তপাতের, বাবা এক বোবা পাহাড়, দুঃখ-শোকের ঝড়-ঝাপ্টায় অটল। বাবা এক অসুখ, প্রত্যহ অনিদ্রা-অরুচি এবং অপ্রাপ্তির বাবা এক অভিযোগ বাক্স, পরিবার পরিজন এবং প্রতিবেশীর। বাবা এক ঠিকানা, শেষ বয়সে নিঃসঙ্গতার-বৃদ্ধাশ্রমের! বাবা দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে।

 

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন