শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ ০৪:৪৪
দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা এসেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। একই তথ্য পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে, লেবাননসহ, সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। এছাড়া মধ্যস্থতাকারীদের তত্ত্বাবধানে আগামী কয়েক দিনে ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।" তিনি হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, "তেল প্রবাহ আবার শুরু হোক।"
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও তুলে নেওয়া হবে।
তবে চুক্তির সব বিষয় এখনই চূড়ান্ত হয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী ৬০ দিনের পৃথক আলোচনায় সিদ্ধান্ত হবে। পাশাপাশি কিছু অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ও পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তার ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অগ্রগতি হয় এবং চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা আসে।
চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথে "অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ" বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে কাতারও মধ্যস্থতা সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হবে, যা বৈশ্বিক তেলবাজার ও অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ভবিষ্যৎ আলোচনা এই শান্তি প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব নির্ধারণ করবে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন