ছবি: বিবিসি
ইংল্যান্ডে সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা আবাসিক চিকিৎসকদের ধর্মঘট শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। সরকারের দেওয়া নতুন প্রস্তাব চিকিৎসকদের সংগঠন ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সদস্যদের কাছে ভোটের জন্য উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিএমএ জানায়, সরকারের সঙ্গে কয়েকদিনের ধারাবাহিক আলোচনার পর নতুন একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকাল ৭টা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নির্ধারিত পাঁচ দিনের ধর্মঘট আপাতত বাতিল করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে চলমান বেতনসংক্রান্ত বিরোধে এটি হতো চিকিৎসকদের ১৬তম ধর্মঘট।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে নতুন প্রস্তাবে আগামী বছর বেতন কাঠামোতে দ্রুত অগ্রগতির পরিকল্পনা, নতুন যোগ্যতাপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার ৫০০টি প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং) পদ এবং চিকিৎসকদের পেশাগত পরীক্ষার ফি সরকারিভাবে বহনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব জেমস মারে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের ইতি টানার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অন্যদিকে, বিএমএর আবাসিক চিকিৎসক কমিটির চেয়ারম্যান ডা. জ্যাক ফ্লেচার বলেন, সরকার তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনায় সংগঠনও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং সদস্যদের মতামতের জন্য নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
যদিও ধর্মঘট স্থগিত হয়েছে, তবু শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত হওয়ায় কিছু হাসপাতালের নির্ধারিত অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবায় প্রভাব পড়েছে। এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ অপারেশন ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী চালানো সম্ভব হলেও কয়েক হাজার রোগীর সেবা পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে।
বর্তমানে ইংল্যান্ডে আবাসিক চিকিৎসকদের প্রারম্ভিক মৌলিক বার্ষিক বেতন ৪০ হাজার পাউন্ডের বেশি, আর জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের চিকিৎসকদের মৌলিক বেতন প্রায় ৭৬ হাজার ৫০০ পাউন্ড। রাতের শিফট, অতিরিক্ত দায়িত্ব ও অনিয়মিত কর্মঘণ্টার জন্য তারা অতিরিক্ত ভাতাও পান।
তবে বিএমএর দাবি, মূল্যস্ফীতির হিসাব করলে ২০০৮ সালের তুলনায় তাদের প্রকৃত আয় এখনও প্রায় ২০ শতাংশ কম। এ কারণেই বেতন পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত ছিল।
উল্লেখ্য, বেতন ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নের দাবিতে ২০২৩ সাল থেকে ইংল্যান্ডে আবাসিক চিকিৎসকদের ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে ছয় দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন তারা। এবার সরকারের নতুন প্রস্তাব সদস্যরা অনুমোদন করলে দীর্ঘদিনের এ বিরোধ নিরসনের পথ তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন