প্রবাস

কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৫

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে একটি এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খবর পেয়ে কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের একটি দলও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। ভবনটি সরু গলির ভেতরে হওয়ায় অগ্নিনির্বাপণকারী গাড়ি সরাসরি ঘটনাস্থলের কাছে যেতে পারেনি। ফলে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

নিউ মার্কেট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, আগুনের পর হোটেলের কক্ষগুলো ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের শরীরে সরাসরি আগুনে পুড়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতদের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশি পর্যটক ও কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিহতদের পরিচয় ও তাদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে মাত্র দুই দিন আগে, ১৭ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

তারাপীঠের ঘটনার পর কলকাতার ব্যস্ত নিউ মার্কেট এলাকায় আরেকটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আগুনের প্রকৃত কারণ, হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে জানা যাবে।

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন