প্রবাস

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকায় আগুন, ১৭৩ অভিবাসীকে উদ্ধার

নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নৌকাটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ ০৪:২৫

ছবি: বিবিসি

ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে ইংলিশ চ্যানেলে একটি ছোট নৌকায় আগুন লাগার ঘটনায় ১৭৩ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ফরাসি ও ব্রিটিশ উদ্ধারকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে সবাইকে নিরাপদে ফ্রান্সের বুলোন-সুর-মের বন্দরে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে ফ্রান্স উপকূল থেকে নৌকাটি যাত্রা শুরু করে। যাত্রার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও নৌকায় থাকা অন্যরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর আশায় উদ্ধার সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরদিন সকালে নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নৌকাটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

এরপর ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্ধারকারী জাহাজ, কোস্টগার্ড, আরএনএলআই লাইফবোট এবং বর্ডার ফোর্সের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। উদ্ধার হওয়া সবাইকে চিকিৎসা ও প্রাথমিক সহায়তার জন্য ফ্রান্সে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর ফরাসি প্রসিকিউটর কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন মিসরীয় নাগরিককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী আনা টার্লি বলেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে অবৈধভাবে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রচেষ্টা কতটা বিপজ্জনক এবং এর পেছনে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্র কতটা নির্মম। তিনি বলেন, এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ফরাসি জলসীমায় ঘটেছে এবং ব্রিটিশ উদ্ধারকারী জাহাজগুলো ফরাসি বাহিনীকে সহায়তা করেছে। সরকারের ভাষ্য, ছোট নৌকায় চ্যানেল পার হওয়ার ঝুঁকি ভয়াবহ এবং এ ধরনের প্রাণঘাতী যাত্রা ঠেকাতে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।

এই নৌকাটিতে থাকা ১৭৩ জন অভিবাসী সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সবচেয়ে বড় দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে গত মাসে ১৬৫ জনকে বহনকারী একটি নৌকা চ্যানেল পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ অভিযোগ করেন, ফরাসি পুলিশ অনেক সময় নৌকাগুলো যাত্রা শুরুর সময় কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না, যা মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বলেন, অবৈধ নৌযাত্রা বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপে অভিবাসন সংকট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্পেনের সেউতা সীমান্তে ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনার পর যুক্তরাজ্যেও ছোট নৌকায় চ্যানেল পার হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ছোট নৌকায় দেশটিতে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কমেছে। তবে গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স মানবপাচার রোধে তিন বছরের একটি সমন্বিত চুক্তি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই চুক্তির আওতায় সমুদ্র ও উপকূলজুড়ে নজরদারি, ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েন এবং পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন