বাংলাদেশ

লং মার্চে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২৫

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের পেছনে রয়েছে তিনটি কারণ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের অবহেলা, সরকার গঠনের পরপরই শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, এবং দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা। তার দাবি, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় দেশীয় সোর্স থেকে গ্যাস উত্তোলনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ফলে জ্বালানি আমদাননির্ভরতা বেড়ে যায়, আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই আমদানিতেই বড় ধাক্কা লাগে।

এই সংকটকালে বিরোধী দলগুলোর ডাকা লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনদুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে উসকানি না দিয়ে সরকারের পাশে থাকা উচিত সবার। তিনি মন্তব্য করেন, লং মার্চ দিয়ে যদি গ্যাসবিদ্যুতের সমস্যা সমাধান হতো, তাহলে সরকারি দলই সবার আগে তা করত।

সংসদ নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং দুই বছর আগের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত এই অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষই দেশের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কার্যকর আলোচনা করেছে। প্রতিটি আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থবহ হয়েছে এমন দাবি না করলেও, সংসদকে জাতীয় আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি, পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানান।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপির ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প, শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাতে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতির যে চিত্র পাওয়া গিয়েছিল, তা কোনো অজুহাত হিসেবে না দাঁড় করিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় এগোনোর কথা জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা

সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট কেটে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে আমদাননির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে জ্বালানিতে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অতীতের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যতবারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, ততবারই সংকট থেকে দেশকে বের করে এনেছে। তিনি জিয়াউর রহমানের আমলে খাদ্যে উদ্বৃত্ত অর্জন ও জনশক্তি রপ্তানির সূচনা, এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার আমলে নারী শিক্ষার প্রসারের কথা উল্লেখ করেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই বর্তমান সরকার সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পূর্ববর্তী সরকার ও বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণ সম্পর্কিত মূল্যায়নগুলো তার নিজের ও তার সরকারের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত, যা নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন