প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫০
র্যাব-৭ এর সংবাদ সম্মেলন
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারে ভয়ংকর কৌশল অবলম্বন করছিল একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র। মাসে ৮ হাজার টাকা ভাতা ও পরিবারের বাজার খরচ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় ও হতদরিদ্র শিশুদের ব্যবহার করা হতো ইয়াবা পাচারে। শিশুদের পাকস্থলীতে পলিথিনে মোড়ানো ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হতো।
এমন একটি চক্রের প্রধান শারমিন আক্তার ওরফে ইসমত আরাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। একই অভিযানে তার সঙ্গে থাকা ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ওই দুই শিশুর পাকস্থলী থেকে মোট ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় র্যাব-৭-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৭-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম।
র্যাব জানায়, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ব্যবহার করে মাদক পাচার করে আসছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির ওপর নজরদারি চালানোর পর আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই চক্রের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত শারমিন আক্তার ওরফে ইসমত আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে শিশু দুটি তাদের পাকস্থলীতে ইয়াবা থাকার কথা জানায়। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে এক্স-রে ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে তাদের পাকস্থলীতে ইয়াবার প্যাকেট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এরপর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশু দুটির পাকস্থলী থেকে নিরাপদে ইয়াবার প্যাকেটগুলো বের করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর বাড়ি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়। তাদের একজনের বয়স ৯ বছর এবং অন্যজনের ১২ বছর।
র্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম জানান, চক্রের সদস্যরা মাসে ৮ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের বাজার খরচ বহনের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু দুটিকে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে কৌশলে পলিথিনে মোড়ানো ছোট ছোট ইয়াবার প্যাকেট তাদের খাওয়ানো হয়।
তিনি জানান, ৯ বছর বয়সী শিশুটির পাকস্থলী থেকে ৩ হাজার ৩০০টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পাকস্থলী থেকে ৩ হাজার ৩১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা ৬ হাজার ৬১৫টি। এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্যাকেটের কোনো একটি ছিদ্র হয়ে মাদক শরীরে ছড়িয়ে পড়লে মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে। এমনকি বাইরে থেকে তাৎক্ষণিক কোনো লক্ষণ দেখা না গেলেও শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এ ঘটনায় চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার শারমিন আক্তারকে উদ্ধার করা ইয়াবাসহ অন্যান্য আলামত নিয়ে পাঁচলাইশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন