রাজনীতি

অব্যাহতি পাওয়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০২:১৩

সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি বিচারাধীন মামলায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী।

অভিযোগের বিস্তারিত

অভিযোগকারী মো. সারোয়ার খালেদ, যিনি একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জানান—হাইকোর্টে চলমান একটি রিট মামলায় অনুকূল রায় এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আবুল হাসান তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন।

তার দাবি, ২০২৪ সালের মে মাসে দায়ের হওয়া একটি মামলার রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই অর্থ নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতিতে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেননি অভিযুক্ত আইন কর্মকর্তা।

লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগ

সারোয়ার খালেদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিচিত এক আইনজীবীর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নগদে এই অর্থ দেওয়া হয়। এমনকি আদালত-সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে তার আস্থা অর্জন করা হয়। পরে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে চাপ সৃষ্টি করে অর্থ নেওয়া হয়।

কিন্তু টাকা নেওয়ার পর বারবার তাগাদা দিলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন আবুল হাসান। পরে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিলেও অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য

নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিষয়টি তার নজরে আসে এবং গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হয়।

অব্যাহতি ও প্রেক্ষাপট

সরকার সোমবার আবুল হাসানকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ জানানো হয়নি। তবে একই দিনে তার বিরুদ্ধে এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।

এর আগে সম্প্রতি আরও দুই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে নতুন করে এই অভিযোগ আইন অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তদন্তের দাবি

অভিযোগকারী ইতোমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

আইন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি বিচার ব্যবস্থার জন্য গুরুতর আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন