প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:১৩
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়ে এবার রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে তার এই ঘোষণাকে অনেকেই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন।
বুধবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ‘জনগণের ম্যান্ডেট অবজ্ঞা’র অভিযোগ তোলেন এবং ওয়াকআউটের ব্যাখ্যা দেন। যদিও সংসদে আলোচনার সুযোগ পেয়েও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, গণভোটে জনগণ সংবিধান ‘সংস্কার’-এর পক্ষে মত দিয়েছে, কিন্তু সরকার ‘সংশোধন’-এর প্রস্তাব এনে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধী দল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম শুরু করেনি। যদিও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতীতের বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আবেগঘন বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তবে এসব অভিযোগের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারপন্থী মহল, যারা বলছেন—সংখ্যা ও তথ্য যাচাই ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তারা রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের কথা বললেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবিধান সংশ্লিষ্ট যেকোনো পরিবর্তন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে এবং তা জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এগিয়ে নেওয়া হবে।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন