প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৪:৪৬
উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি নৌযানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছয় দিন খাদ্য ও পানি ছাড়া ভেসে থাকার পর অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, নৌযানটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যাত্রাপথে দিক হারিয়ে ফেলে ছোট এই রাবারের নৌকাটি। প্রতিকূল আবহাওয়া ও খাদ্য-পানির সংকটে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
শুক্রবার গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি এলাকা থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে এক নারী ও এক শিশুও রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন, যাত্রাপথে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। গ্রিক কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে আটক করা হয়েছে, যারা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটি ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল এবং দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ভাসতে থাকে। এতে যাত্রীদের চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও খাদ্য সংকটে মৃত্যু ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই এই পথে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ অভিবাসনের পথ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মানুষের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার অন্যতম কারণ।
প্রবাস থেকে আরো পড়ুন