ভুয়া অ্যাসাইলাম আবেদন
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:০৭
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ
যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারে জড়িত তথাকথিত ‘প্রতারক আইনজীবী’ ও পরামর্শকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু আইন প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক হাজার হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে অভিবাসীদের সমকামী পরিচয়ে ভুয়া আশ্রয় আবেদন করতে সহায়তা করছে। এ ঘটনার পরই কঠোর অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শাবানা মাহমুদ বলেন, “যারা যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্যাতনের শিকার মানুষদের জন্য দেওয়া সুরক্ষা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে, তারা নিন্দনীয় কাজ করছে। কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে থাকতে চায়, তাহলে তার আশ্রয় আবেদন বাতিল হবে এবং তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপব্যবহারে সহায়তাকারী আইনজীবীরাও আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হবে।
বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিসার মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া অভিবাসীদের ভুয়া গল্প তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে মিথ্যা প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে তা শেখানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভুয়া ছবি, সমর্থনপত্র ও চিকিৎসা নথি।
এসব ব্যবহার করে তারা দাবি করছে, নিজ দেশে ফিরে গেলে তারা ঝুঁকিতে পড়বে—বিশেষ করে পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে সমকামিতা আইনত নিষিদ্ধ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ আবেদন এসেছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিবিসির প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের বাড়তে থাকা প্রবণতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে অভিবাসন পরামর্শ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ আশ্রয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কেবল প্রকৃত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরাই সুরক্ষা পান।
এদিকে, মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা তৈরি করছে এবং তাদের দাবি যাচাই আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় যাচাই করা তুলনামূলক জটিল হওয়ায় এই খাতে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় আবেদনকারীদের বড় একটি অংশ পাকিস্তানের নাগরিক। ২০২৩ সালে এই ধরনের আবেদনের প্রায় ৪২ শতাংশই ছিল পাকিস্তানিদের কাছ থেকে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ আবেদনই প্রকৃত এবং কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়েই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন আশ্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এসেছে, অন্যদিকে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতারণা রোধের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাস থেকে আরো পড়ুন