প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
ধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় আগ্রহী নয় ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সেই সক্ষমতা ধ্বংস করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি বার্তা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় কোনো দেশ যেন অংশ না নেয়। তিনি দাবি করেন, যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ না হয়, তাহলে তেহরানও হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।
চলমান সংঘাতে ইরান একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল লেবাননে হিজবোল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ইরান ও আশপাশের অঞ্চলে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে এবং অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সেনা নিহত হওয়ার খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেল সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। কুয়েত, ইরাক ও কাতার উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব শুধু অঞ্চলেই নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতেও গভীরভাবে পড়তে পারে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন