প্রবাস

ব্রিটেনে বাংলাদেশি শিশুদের দারিদ্রের হার উদ্বেগজনক

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৫:১০

ব্রিটেনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। ছবি: বায়ান্ননিউজ২৪

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রিটিশ–বাংলাদেশি শিশুদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। সামাজিক নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্যের প্রতিফলন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিশু দারিদ্র্য বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে—বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলো ব্রিটেনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শিশুদের ক্ষেত্রেও দারিদ্র্যের হার ৫০ শতাংশের বেশি। তুলনায় শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ পরিবারে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য সাধারণত আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর পরিবারের প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। উচ্চ ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে বহু কর্মজীবী পরিবারও কার্যত দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর বড় অংশ লন্ডনসহ উচ্চ ব্যয়ের এলাকায় বসবাস করায় চাপ আরও বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রাপ্তবয়স্কদের অনেকেই নিম্ন আয়ের খাতে কাজ করেন। অনেক পরিবারে একজনই উপার্জনকারী, আবার বহু নারী ভাষা বা সামাজিক কারণে শ্রমবাজারে পুরোপুরি যুক্ত হতে পারেন না। শিক্ষায় অগ্রগতি থাকলেও উচ্চ আয়ের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে।

আগামী মাসে দারিদ্র্য পরিমাপের নতুন পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। তবে সমালোচকদের মতে, পরিসংখ্যানের পদ্ধতি বদলালেই মূল সংকট দূর হবে না। প্রয়োজন আয় বৃদ্ধি, আবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা।

কমিউনিটি নেতারা বলছেন, বহু পরিবার লোকলজ্জার কারণে সরকারি সহায়তা নিতে চান না। ফলে বাস্তব দারিদ্র্যের চিত্র অনেক সময় আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে পুরোপুরি ধরা পড়ে না।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা ছাড়া এই পরিস্থিতি বদলানো কঠিন। ব্রিটেনে বাংলাদেশি শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন